ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কবি সুনির্মল ঘোষ-এর কবিতা।

রাইসা ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৫২২৬ বার পড়া হয়েছে

কবি সুনির্মল ঘোষের কবিতা–

“জিনিয়াকে নিয়ে”

                — সুনির্মল ঘোষ

 

এই অরণ্যে, গভীর বনে, নাম না জানা নদীর ধারে

জিনিয়াকে সঙ্গী করে ঘর বাঁধবো।

ভোর হলে দরজা খুলে জিনিয়াক

মিষ্টি নদীর মিষ্টি গান শুনিয়ে ছাড়বো।

চুপটি করে হাতটি ধরে জিনিয়াকে সঙ্গী করে

পূব আকাশের মাঠগুলো সব পেরিয়ে যাবো।

হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে,

একটু বসে গাছের তলে জিরিয়ে নেবো।

পাখ-পাখালি উড়ে আসবে আমাদের সঙ্গী করে।

আকাশ জুড়ে ঠিক তখনই বাজবে সব একতারাতে গানগুলি।

গাছের থেকে ফল খাবো,

আজলা ভোরে নদীর জল।

মিষ্টি হাসি হাসবে তখন জিনিয়ার সারা চোখ,

দেহ করবে টলটল।

সূর্যি যখন পাটে যাবেন,

বিষন্ন সেই বিকেলগুলো

ডুবিয়ে দেবো নদীর জলে।

খোল করতাল সঙ্গে নিয়ে

গান গাইবো গাছের তলে।

মনখারাপের বিকেল গুলো

নদীর জলে ভাসিয়ে দেবো।

ফুলের গন্ধে ঠিক তখনই ভোরে উঠবে জিনিয়ার সারা শরীর।

সন্ধ্যে যখন গভীর হবে,

ভীষণ আঁধার বনের বুকে ছড়িয়ে যাবে।

ঠিক তখনই জিনিয়া হেসে

হাত তুলে পূর্ণিমাকে ডেকে আনবে।

সারা বনে ছড়িয়ে পড়বে আলো।

মুছে যাবে সকল ঘন কালো।

ঠিক তখনই একশো বীনা বেজে উঠবে প্রতি গাছের ডালে ডালে।

একাল -সেকাল অনেক কালের গল্প বলবো জিনিয়াকে,

সেই আওয়াজে বনের সব হিংস্র পশু রাগ -হিংসা ভুলে যাবে।

সেতার বাজবে, বীনা বাজবে,

বাজবে কত বিচিত্র সুর।

আর থেকোনা দূরে তুমি,

জিনিয়া কেন বসে বহুদূর?

বনের আঁচলখানি পাতা

প্রকৃতিকে নিজের করে প্রকৃতিরই পাওয়া।

শেয়ার করুন :

কবি সুনির্মল ঘোষ-এর কবিতা।

আপডেট সময় : ০৭:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩

কবি সুনির্মল ঘোষের কবিতা–

“জিনিয়াকে নিয়ে”

                — সুনির্মল ঘোষ

 

এই অরণ্যে, গভীর বনে, নাম না জানা নদীর ধারে

জিনিয়াকে সঙ্গী করে ঘর বাঁধবো।

ভোর হলে দরজা খুলে জিনিয়াক

মিষ্টি নদীর মিষ্টি গান শুনিয়ে ছাড়বো।

চুপটি করে হাতটি ধরে জিনিয়াকে সঙ্গী করে

পূব আকাশের মাঠগুলো সব পেরিয়ে যাবো।

হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে,

একটু বসে গাছের তলে জিরিয়ে নেবো।

পাখ-পাখালি উড়ে আসবে আমাদের সঙ্গী করে।

আকাশ জুড়ে ঠিক তখনই বাজবে সব একতারাতে গানগুলি।

গাছের থেকে ফল খাবো,

আজলা ভোরে নদীর জল।

মিষ্টি হাসি হাসবে তখন জিনিয়ার সারা চোখ,

দেহ করবে টলটল।

সূর্যি যখন পাটে যাবেন,

বিষন্ন সেই বিকেলগুলো

ডুবিয়ে দেবো নদীর জলে।

খোল করতাল সঙ্গে নিয়ে

গান গাইবো গাছের তলে।

মনখারাপের বিকেল গুলো

নদীর জলে ভাসিয়ে দেবো।

ফুলের গন্ধে ঠিক তখনই ভোরে উঠবে জিনিয়ার সারা শরীর।

সন্ধ্যে যখন গভীর হবে,

ভীষণ আঁধার বনের বুকে ছড়িয়ে যাবে।

ঠিক তখনই জিনিয়া হেসে

হাত তুলে পূর্ণিমাকে ডেকে আনবে।

সারা বনে ছড়িয়ে পড়বে আলো।

মুছে যাবে সকল ঘন কালো।

ঠিক তখনই একশো বীনা বেজে উঠবে প্রতি গাছের ডালে ডালে।

একাল -সেকাল অনেক কালের গল্প বলবো জিনিয়াকে,

সেই আওয়াজে বনের সব হিংস্র পশু রাগ -হিংসা ভুলে যাবে।

সেতার বাজবে, বীনা বাজবে,

বাজবে কত বিচিত্র সুর।

আর থেকোনা দূরে তুমি,

জিনিয়া কেন বসে বহুদূর?

বনের আঁচলখানি পাতা

প্রকৃতিকে নিজের করে প্রকৃতিরই পাওয়া।