ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কবিতাঃ- “তবু বেঁচে আছি” — সঞ্জীব কুমার দাস।

রাইসা ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৫২৩৮ বার পড়া হয়েছে

তবু বেঁচে আছি

—সঞ্জীব কুমার দাস

বেঁচে আছি,এই তো বেঁচে আছি
অবাক লাগে, বেঁচে আছি।
কত বিষাক্ত পথ পেরিয়ে,
কত প্রতিকূলতা জয় করে বেঁচে আছি।
হ্যাঁ,এই তো….।

চিমটি কাটলে ব্যথা লাগে,
আনন্দ পেলে হাসি এখনো,
দুঃখে.. তবু কান্না আসেনা এখন আর।
তবে?বেঁচে আছি তো।
এই তো – – – –
চারদিকে মৃত্যু-সমুদ্র আছড়ে পড়ে সুনামি যেন,
মাটিতে কান পেতে শুনি আজ জীবনের হাহাকার।
দিগন্তে আগুন গোলার লেলিহান শিখা করে সব ছারখার।
সভ্যতা যখন বিষ মিশিয়ে দিলো আকাশে-বাতাসে
দমবন্ধ পৃথিবীর ফুসফুস ফেটে বেড়িয়ে এলো রক্তধারা,
তখনও আমি বেঁচে…।

অনন্ত পথ পেরিয়ে ভ্রমেছি বিশ্ব,
ভ্রমেছি আমি জীবনচক্রের আবর্তে।
দিকে দিকে দেখি শুধু মৃত্যু, নীল – মৃত্য-সমুদ্রকে।
তবুও বেঁচে থাকার আকুতি নিয়েই পথ চাওয়া।
আমি তোমাদেরই সেই,
বেঁচে আছি এখনো।
এই দেখো—।

জানো….
অভুক্ত-অনাহারে কেটেছিল শৈশব,
কৈশোরটা পার করেছি দাঙ্গা আর দানাহানিতে।
না,যৌবনটা কাটেনি মন্দ অবশ্য–
উঁচু প্রাচীরের কারাগারে পঙক্তিভোজনের ঘ্রাণ এখনো রসনায় তৃপ্তি আনে।
এভাবেই সুন্দর বেঁচে ছিলাম সেদিন
বেঁচে ছিলাম…।

সিংহাসন তৈরি করেছিলাম,
তোমাদের নিরাপদ সোনার সিংহাসন।
পৌঢ়ে আবার গেলাম ফেসে,
কেস, আবার খানচারেক।
হাঃ হাঃ, বেঁচে ছিলাম ,তবুও বেঁচে ছিলাম;
তোমাদেরই অমৃত দানে।
আর বার্ধক্যে? ভালো আছি এখনো,
দেখেছি এই সোনার বাংলাকে, সোনার দেশটাকে।
দিকে দিকে স্বর্ণছটা, চোখ ঝলসে উঠছে।
শুধু জীবনের ভিক্ষা…।

না,শিক্ষা চাইনি,চাকুরি চাইনি,প্রতিকার চাইনি,
চাইনি আমি মানবাধিকার কিংবা উন্নয়ন।
বাসনা জাগে মনে আর ভেবে আনন্দ পাই তখন
কবরে সুপ্ত, তবুও আমার কদর আজও বেশ আছে।
আছে সেই তোমাদের গণতান্ত্রিক উৎসবে।
এখনো বেঁচে আছি ওখানে…
হাঃ হাঃ, বেঁচে আছি বেশ।

কবি পরিচিতিঃ-
কবির জন্ম ১৯৭৬ সালের ৪ঠা জানুয়ারি বীরভূম জেলার মাড়গ্রামে। বর্তমানে কবি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান বাসস্থান বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়িতে। বীরভূম প্রশাসন দ্বারা প্রকাশিত ‘ভোরের আলো’ পত্রিকাতে কবিতা প্রকাশিত হয় প্রায় ১৪ বছর আগে। আনন্দবাজার পত্রিকাতে কবির অনেকগুলো ভ্রমণ কাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

শেয়ার করুন :

কবিতাঃ- “তবু বেঁচে আছি” — সঞ্জীব কুমার দাস।

আপডেট সময় : ০১:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩

তবু বেঁচে আছি

—সঞ্জীব কুমার দাস

বেঁচে আছি,এই তো বেঁচে আছি
অবাক লাগে, বেঁচে আছি।
কত বিষাক্ত পথ পেরিয়ে,
কত প্রতিকূলতা জয় করে বেঁচে আছি।
হ্যাঁ,এই তো….।

চিমটি কাটলে ব্যথা লাগে,
আনন্দ পেলে হাসি এখনো,
দুঃখে.. তবু কান্না আসেনা এখন আর।
তবে?বেঁচে আছি তো।
এই তো – – – –
চারদিকে মৃত্যু-সমুদ্র আছড়ে পড়ে সুনামি যেন,
মাটিতে কান পেতে শুনি আজ জীবনের হাহাকার।
দিগন্তে আগুন গোলার লেলিহান শিখা করে সব ছারখার।
সভ্যতা যখন বিষ মিশিয়ে দিলো আকাশে-বাতাসে
দমবন্ধ পৃথিবীর ফুসফুস ফেটে বেড়িয়ে এলো রক্তধারা,
তখনও আমি বেঁচে…।

অনন্ত পথ পেরিয়ে ভ্রমেছি বিশ্ব,
ভ্রমেছি আমি জীবনচক্রের আবর্তে।
দিকে দিকে দেখি শুধু মৃত্যু, নীল – মৃত্য-সমুদ্রকে।
তবুও বেঁচে থাকার আকুতি নিয়েই পথ চাওয়া।
আমি তোমাদেরই সেই,
বেঁচে আছি এখনো।
এই দেখো—।

জানো….
অভুক্ত-অনাহারে কেটেছিল শৈশব,
কৈশোরটা পার করেছি দাঙ্গা আর দানাহানিতে।
না,যৌবনটা কাটেনি মন্দ অবশ্য–
উঁচু প্রাচীরের কারাগারে পঙক্তিভোজনের ঘ্রাণ এখনো রসনায় তৃপ্তি আনে।
এভাবেই সুন্দর বেঁচে ছিলাম সেদিন
বেঁচে ছিলাম…।

সিংহাসন তৈরি করেছিলাম,
তোমাদের নিরাপদ সোনার সিংহাসন।
পৌঢ়ে আবার গেলাম ফেসে,
কেস, আবার খানচারেক।
হাঃ হাঃ, বেঁচে ছিলাম ,তবুও বেঁচে ছিলাম;
তোমাদেরই অমৃত দানে।
আর বার্ধক্যে? ভালো আছি এখনো,
দেখেছি এই সোনার বাংলাকে, সোনার দেশটাকে।
দিকে দিকে স্বর্ণছটা, চোখ ঝলসে উঠছে।
শুধু জীবনের ভিক্ষা…।

না,শিক্ষা চাইনি,চাকুরি চাইনি,প্রতিকার চাইনি,
চাইনি আমি মানবাধিকার কিংবা উন্নয়ন।
বাসনা জাগে মনে আর ভেবে আনন্দ পাই তখন
কবরে সুপ্ত, তবুও আমার কদর আজও বেশ আছে।
আছে সেই তোমাদের গণতান্ত্রিক উৎসবে।
এখনো বেঁচে আছি ওখানে…
হাঃ হাঃ, বেঁচে আছি বেশ।

কবি পরিচিতিঃ-
কবির জন্ম ১৯৭৬ সালের ৪ঠা জানুয়ারি বীরভূম জেলার মাড়গ্রামে। বর্তমানে কবি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান বাসস্থান বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়িতে। বীরভূম প্রশাসন দ্বারা প্রকাশিত ‘ভোরের আলো’ পত্রিকাতে কবিতা প্রকাশিত হয় প্রায় ১৪ বছর আগে। আনন্দবাজার পত্রিকাতে কবির অনেকগুলো ভ্রমণ কাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।