ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কবিতাঃ- “আমাদের সময়ে ভালোবাসা” — মাহমুদ হাছান খোকন।

রাইসা ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩
  • / ৫২৩১ বার পড়া হয়েছে

আমাদের সময়ে ভালোবাসা

—মাহমুদ হাছান খোকন

 

গ্রীষ্মের ছুটি শেষে গ্রাম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে

ফেরার সময় —

নিম্নস্বরে লাজুক ছোট্ট প্রশ্ন,

আবার কতোদিন পর ছুটি হবে?

তারপর…

সজল মনে বিদায়ের পালা।

অদৃশ্য অথৈ নোনা অশ্রুজলে

আশার নাক উঁচুকরে দু’জনার

কোনমতে কেবলি ভেসে থাকা।।

 

অতঃপর দিনগোনা-রাতগোনা।

অপেক্ষার পর অপেক্ষা।

ডাকপিয়নের অপেক্ষায় নির্দিষ্ট সময় বসে থাকা।

কাঁচাহাতের লেখা যদি এসে থাকে,

কোনো আঠা লাগানো খামে!

বন্ধুদের হাতে ধরা পড়ার লজ্জা

লুকোবো কোথায়?

 

একগাদা চিঠি বগলে চেপে

হাতে কাপড়ের ব্যাগে পার্সেল নিয়ে

মতিনভাই, ওয়ার্কিং ডে’তে একই সময়ে আসে।

প্রায়শই দূর থেকে গম্ভীর মুখে

মাথা নাড়িয়ে —- হতাশ করে সে চলে যায়।

যেদিন চিঠি আসে

সেদিন সে ঈশ্বরের পবিত্র হাসি

নিঃশব্দে হাসে—

মনে হয়, দু’টি হৃদয়ের মেলবন্ধনে

তিনিই একমাত্র পুষ্পমালা।

 

বহুবেদনার অমাবস্যা, গড়িয়ে গড়িয়ে

বহুদিন পরে বাড়ী এলে,

মনের ভেতর শুধু আনচান করে—

কখন লোকচক্ষুর আড়ালে

দেখা হবে তার সাথে।

ভাষাহীন কথা হবে দু’টি মনের

একদম নিরজনে।।

 

আহা! ভালোবাসাতো তাকেই বলে,

যা প্রিয়জনের অপেক্ষায়

অবলীলায় কাটিয়ে দেয়, অনন্ত সময়।

প্রেমিকতো তাঁকেই বলে—-

যে আন্দামানের কারাগারের,

অন্ধকার সেলে বসেও

জীবন কাটিয়ে দেয় সোনালি স্বপ্নের ঘোরে।।

 

কবি পরিচিতিঃ-

কবির জন্ম বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার সরিষাবাড়ি গ্রামে সরকারি চাকুরে পিতার ঘরে ১৯৫৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। মাতা গৃহিণী এবং স্বভাবকবি। পিতা সাহিত্যপ্রেমী, বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যে পাণ্ডিত্য ছিলো। কৈশোরে দেয়ালপত্রিকায় ছড়া লেখায় হাতেখড়ি। এরপর ছাত্ররাজনীতি এবং সমাজপরিবর্তনের আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

কোভিডের অতিমারীতে স্বেচ্ছাবন্দী জীবনে অনলাইন অফুরান কাগজ আর মুঠোফোনটি হয়ে উঠে কবির কলম। ২০১৯ থেকে নিয়মিত লিখতে শুরু করেন।

রাজধানী ঢাকায় এখন কবির স্থায়ী বসতি।

শেয়ার করুন :

কবিতাঃ- “আমাদের সময়ে ভালোবাসা” — মাহমুদ হাছান খোকন।

আপডেট সময় : ০১:২৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

আমাদের সময়ে ভালোবাসা

—মাহমুদ হাছান খোকন

 

গ্রীষ্মের ছুটি শেষে গ্রাম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে

ফেরার সময় —

নিম্নস্বরে লাজুক ছোট্ট প্রশ্ন,

আবার কতোদিন পর ছুটি হবে?

তারপর…

সজল মনে বিদায়ের পালা।

অদৃশ্য অথৈ নোনা অশ্রুজলে

আশার নাক উঁচুকরে দু’জনার

কোনমতে কেবলি ভেসে থাকা।।

 

অতঃপর দিনগোনা-রাতগোনা।

অপেক্ষার পর অপেক্ষা।

ডাকপিয়নের অপেক্ষায় নির্দিষ্ট সময় বসে থাকা।

কাঁচাহাতের লেখা যদি এসে থাকে,

কোনো আঠা লাগানো খামে!

বন্ধুদের হাতে ধরা পড়ার লজ্জা

লুকোবো কোথায়?

 

একগাদা চিঠি বগলে চেপে

হাতে কাপড়ের ব্যাগে পার্সেল নিয়ে

মতিনভাই, ওয়ার্কিং ডে’তে একই সময়ে আসে।

প্রায়শই দূর থেকে গম্ভীর মুখে

মাথা নাড়িয়ে —- হতাশ করে সে চলে যায়।

যেদিন চিঠি আসে

সেদিন সে ঈশ্বরের পবিত্র হাসি

নিঃশব্দে হাসে—

মনে হয়, দু’টি হৃদয়ের মেলবন্ধনে

তিনিই একমাত্র পুষ্পমালা।

 

বহুবেদনার অমাবস্যা, গড়িয়ে গড়িয়ে

বহুদিন পরে বাড়ী এলে,

মনের ভেতর শুধু আনচান করে—

কখন লোকচক্ষুর আড়ালে

দেখা হবে তার সাথে।

ভাষাহীন কথা হবে দু’টি মনের

একদম নিরজনে।।

 

আহা! ভালোবাসাতো তাকেই বলে,

যা প্রিয়জনের অপেক্ষায়

অবলীলায় কাটিয়ে দেয়, অনন্ত সময়।

প্রেমিকতো তাঁকেই বলে—-

যে আন্দামানের কারাগারের,

অন্ধকার সেলে বসেও

জীবন কাটিয়ে দেয় সোনালি স্বপ্নের ঘোরে।।

 

কবি পরিচিতিঃ-

কবির জন্ম বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার সরিষাবাড়ি গ্রামে সরকারি চাকুরে পিতার ঘরে ১৯৫৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। মাতা গৃহিণী এবং স্বভাবকবি। পিতা সাহিত্যপ্রেমী, বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যে পাণ্ডিত্য ছিলো। কৈশোরে দেয়ালপত্রিকায় ছড়া লেখায় হাতেখড়ি। এরপর ছাত্ররাজনীতি এবং সমাজপরিবর্তনের আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

কোভিডের অতিমারীতে স্বেচ্ছাবন্দী জীবনে অনলাইন অফুরান কাগজ আর মুঠোফোনটি হয়ে উঠে কবির কলম। ২০১৯ থেকে নিয়মিত লিখতে শুরু করেন।

রাজধানী ঢাকায় এখন কবির স্থায়ী বসতি।