ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কবিতাঃ- “উলঙ্গ চিত্রাঙ্গদা নাচছে” — অংশুদেব।

রাইসা ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুলাই ২০২৩
  • / ৫২৪০ বার পড়া হয়েছে

উলঙ্গ চিত্রাঙ্গদা নাচছে

—অংশুদেব 

 

অবৈধ সন্তান বলে ওরা মসনদ চায়

হাজার পুরুষ খাওয়া দেহ কি জানে

জরায়ুতে ঢুকেছে কোন শয়তান!

মা বেশ্যা বলে দোষ দিচ্ছি না ,

ওটা একটা জীবিকা,যেমন নেতাদের

যেমন মন্ত্রী,আমলা, পুলিশ পেটের জন্য

পড়ে থাকে পদ আগলে – যেমন কালিঘাট

হাড়কাটা গলি ,আরো অনেক অনেক-

দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে প্রত্যাশায় ।

আমি গাল দিচ্ছি না, নপুংসক শাসক জেনে

খেদ উঠছে, উগরে দিতে ইচ্ছে করছে বমি

বহু বছরের বর্বরতার অহংকারে দেশের

সৈনিকের স্ত্রীকে উলঙ্গ করে রাজনীতি ;

হায় মণিপুর , কুরুক্ষেত্র তোমাকে না ছুঁতে পারলেও

চিত্রাঙ্গদার শর্ত না ভাঙতে পারলেও অর্জুন

বুকের গভীরে রেখেছিল অপমানের বীজ

নারীর মোহনীয় আলোয় অন্ধ পাণ্ডব পুত্র

মনে মনে চেয়েছিল বভ্রবাহনও জড়িয়ে পড়ুক।

ভারতের বুক থেকে ছিন্ন করেনি মণিপুরের অধিকার

সেই অধিকার আজ হুমকি দেয় –

উলঙ্গ হয়ে দাঁড়া, নইলে –

এরা কারা? অসভ্য ভারতীয় জাতির বংশধর?

যে অসভ্যতা ঘটেছে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ,

কৌরব রাজসভায় !

এরা তো সেই দুঃশাসন, সদর্পে মণিপুরের

প্রকাশ্য রাস্তায় দ্রৌপদীকে বলছে – কাপড় খোল…

দুঃখিত ভারতের রাষ্ট্রপতি এখন দ্রৌপদী

দেশের সর্বময় কর্তা চুপ ,মহিলার বেইজ্জতি শুনেও ।

দেশের সংবিধান নপুংসক শাসক জন্ম দেবার জন্য

যারা দেখতে জানে, শুনতে জানে, বলতে জানে না ।

অর্জুন লজ্জায় হয়তো গান্ডীব পুড়িয়ে দিয়েছিল,

সে জানত কিছু ময়লা ঘাঁটা উত্তরসূরি জন্ম নেবে –

কেননা তার জন্মও তো স্বচ্ছ নয় !

পৃথিবীর কোনো মহাকাব্য এভাবে

ধর্ষণ ও উলঙ্গ করার পক্ষে ?

পৃথিবীর কোনো মহাকাব্যের শাসক অন্ধ নয়,

সভাসদ, পারিষদ, আমলা দিনের পর দিন

মুখ বুজে গদি আগলে বসে ছিল, বসে আছে।

আমরা সেই মহাকাব্যের ভবিষ্যত

শুধু মণিপুর নয়, চেয়ে দেখ সারা ভারত মণিপুর,

সারা ভারত জুড়ে দ্রৌপদী নাচছে,

ধৃতরাষ্ট্রের সভা ঘরে, অগণিত দর্শক

ভোটদাতারা মজা লুটছে- নারীর দেহ ! আহা! আহা!

মনে মনে গান্ধারীর দেহে ধৃতরাষ্ট্রের মন

দেখছে মহাজাগতিক আলোয় যুদ্ধক্ষেত্র!

উলঙ্গ চিত্রাঙ্গদা হাঁটছে

হাঁটছে কৌরব পুত্র বধু !

অর্জুন! আর কি কোনদিন উলঙ্গ হতে পারবে

নারী রত্ন চিত্রাঙ্গদার সামনে, প্রকৃত পুরুষ হয়ে?

 

কবি পরিচিতিঃ-

অংশুদেব এর প্রকৃত নাম অংশুদেব মন্ডল। বাবরি মসজিদ আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পদবী ব্যবহার করেন না। ১৯৬১ সালে ২৪ পরগনা দক্ষিণে জন্ম। ১৯৮২ তে প্রথম কবিতা প্রকাশ পায় কলেজ ম্যাগাজিনে। কবির এই পর্যন্ত ১৫ টি গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে।

শেয়ার করুন :

কবিতাঃ- “উলঙ্গ চিত্রাঙ্গদা নাচছে” — অংশুদেব।

আপডেট সময় : ০৬:০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুলাই ২০২৩

উলঙ্গ চিত্রাঙ্গদা নাচছে

—অংশুদেব 

 

অবৈধ সন্তান বলে ওরা মসনদ চায়

হাজার পুরুষ খাওয়া দেহ কি জানে

জরায়ুতে ঢুকেছে কোন শয়তান!

মা বেশ্যা বলে দোষ দিচ্ছি না ,

ওটা একটা জীবিকা,যেমন নেতাদের

যেমন মন্ত্রী,আমলা, পুলিশ পেটের জন্য

পড়ে থাকে পদ আগলে – যেমন কালিঘাট

হাড়কাটা গলি ,আরো অনেক অনেক-

দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে প্রত্যাশায় ।

আমি গাল দিচ্ছি না, নপুংসক শাসক জেনে

খেদ উঠছে, উগরে দিতে ইচ্ছে করছে বমি

বহু বছরের বর্বরতার অহংকারে দেশের

সৈনিকের স্ত্রীকে উলঙ্গ করে রাজনীতি ;

হায় মণিপুর , কুরুক্ষেত্র তোমাকে না ছুঁতে পারলেও

চিত্রাঙ্গদার শর্ত না ভাঙতে পারলেও অর্জুন

বুকের গভীরে রেখেছিল অপমানের বীজ

নারীর মোহনীয় আলোয় অন্ধ পাণ্ডব পুত্র

মনে মনে চেয়েছিল বভ্রবাহনও জড়িয়ে পড়ুক।

ভারতের বুক থেকে ছিন্ন করেনি মণিপুরের অধিকার

সেই অধিকার আজ হুমকি দেয় –

উলঙ্গ হয়ে দাঁড়া, নইলে –

এরা কারা? অসভ্য ভারতীয় জাতির বংশধর?

যে অসভ্যতা ঘটেছে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ,

কৌরব রাজসভায় !

এরা তো সেই দুঃশাসন, সদর্পে মণিপুরের

প্রকাশ্য রাস্তায় দ্রৌপদীকে বলছে – কাপড় খোল…

দুঃখিত ভারতের রাষ্ট্রপতি এখন দ্রৌপদী

দেশের সর্বময় কর্তা চুপ ,মহিলার বেইজ্জতি শুনেও ।

দেশের সংবিধান নপুংসক শাসক জন্ম দেবার জন্য

যারা দেখতে জানে, শুনতে জানে, বলতে জানে না ।

অর্জুন লজ্জায় হয়তো গান্ডীব পুড়িয়ে দিয়েছিল,

সে জানত কিছু ময়লা ঘাঁটা উত্তরসূরি জন্ম নেবে –

কেননা তার জন্মও তো স্বচ্ছ নয় !

পৃথিবীর কোনো মহাকাব্য এভাবে

ধর্ষণ ও উলঙ্গ করার পক্ষে ?

পৃথিবীর কোনো মহাকাব্যের শাসক অন্ধ নয়,

সভাসদ, পারিষদ, আমলা দিনের পর দিন

মুখ বুজে গদি আগলে বসে ছিল, বসে আছে।

আমরা সেই মহাকাব্যের ভবিষ্যত

শুধু মণিপুর নয়, চেয়ে দেখ সারা ভারত মণিপুর,

সারা ভারত জুড়ে দ্রৌপদী নাচছে,

ধৃতরাষ্ট্রের সভা ঘরে, অগণিত দর্শক

ভোটদাতারা মজা লুটছে- নারীর দেহ ! আহা! আহা!

মনে মনে গান্ধারীর দেহে ধৃতরাষ্ট্রের মন

দেখছে মহাজাগতিক আলোয় যুদ্ধক্ষেত্র!

উলঙ্গ চিত্রাঙ্গদা হাঁটছে

হাঁটছে কৌরব পুত্র বধু !

অর্জুন! আর কি কোনদিন উলঙ্গ হতে পারবে

নারী রত্ন চিত্রাঙ্গদার সামনে, প্রকৃত পুরুষ হয়ে?

 

কবি পরিচিতিঃ-

অংশুদেব এর প্রকৃত নাম অংশুদেব মন্ডল। বাবরি মসজিদ আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পদবী ব্যবহার করেন না। ১৯৬১ সালে ২৪ পরগনা দক্ষিণে জন্ম। ১৯৮২ তে প্রথম কবিতা প্রকাশ পায় কলেজ ম্যাগাজিনে। কবির এই পর্যন্ত ১৫ টি গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে।