ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধারাবাহিক গল্প।

গল্পঃ- ‘কন্যার বিবাহ’ – ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন। পর্ব – ৫ || দৈনিক নয়ালোক

SRI Bonsai
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ মে ২০২৩
  • / ৫১৪৭ বার পড়া হয়েছে

“কন্যার বিবাহ”

রচনা:- ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন।

“শেষ খন্ড”

হীরকের বাবা সরদার আজমত আলী সাহেব হিকমত সাহেবের পিছু নেন। অনাকাঙ্ক্ষিত কোন কিছু ঘটার আগেই হিকমত সাহেবকে আশ্বস্ত করার ব্যপারে ওয়াকিবহাল আছেন। হিকমত সাহেব গেটের সামনে এসে দেখেন তাঁর মেয়ের হবু বর পুলিশ ভ্যানে বসা। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে আছেন। আজমত আলী সাহেব হিকমত সাহেবের কাঁধের উপর হাত রাখেন। হিকমত সাহেব বুকের বাম পাশ হাত দিয়ে ঘুরে দাঁড়ান। আজমত আলী চোখের ইশারায় অভয় দেবার চেষ্টা করেন। হিকমত আলী ইতঃমধ্যে বুকে চিন চিন ব্যথা অনুভব করেন, সেই দিকে তোয়াক্কা না করে পুলিশ ভ্যানের দিকে এগিয়ে যাবার জন্য পা বাড়ান।

আজমত আলী সাহেব তাঁর হাত ধরে থামান। “আপনাকে আর এই বিষয়ে ভাবতে হবে না। আমি আপনার মেয়ের বন্ধু হীরকের বাবা, আমি সব জানি, আপনি রিল্যক্স হন, মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে, সমাজ কী বলবে এই নিয়ে একটুও চিন্তা করবেন না। আপনি ভাবুন আপনার মেয়ে একজন যৌতুক লোভীর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে” । আজমত আলী অল্প সময়ে বেশ গুছিয়ে কথা গুলো বললেন। হিকমত আলী মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে থেকে কথা গুলো গিলে যান। বুক থেকে হাত নামিয়ে নিয়ে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়েন। “ভাই আমার মেয়েকে এই ঘটনার পর কে বিয়ে করবে?” অসহায়ের মত আজমত আলীর দিকে প্রশ্ন ছূড়ে দেন। “আপনার মেয়ে অন্যায় কিছু করেনি, বরং অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে, ও হাজার হাজার মেয়ের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। আপনি এতো ভাবছেন কেন?” আজমত আলী সাহেব কথার দৃঢ়তা দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন পাশে আছেন।

হনুফা বানু শোনেই গেটে ছুটে এসেছেন। হিকমত সাহেবকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একটু স্বস্তি পান। পাশে এসে দাঁড়ান। এমন সময় পুলিশ ভ্যান স্টার্ট দেয়। হনুফা বানু এগিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই হিকমত আলী পেছন থেকে হাত ধরেন। “বানু আমি ভুল বুঝতে পেরেছি, আমার মেয়ে সঠিক কাজটি করেছে। আমরা ওর পছন্দের গুরুত্ব না দিয়ে লোভে পড়ে বিদেশী পাত্রের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি” । বানু অবাক হয়ে বিস্ফারিত চোখে হিকমত আলীর দিকে তাকিয়ে থাকেন।

“হুক্কা হুয়া, ক্যায়া মজা, বর রাজা কুপোকাত” তন্ময়, তিন্নী এবং উপস্থিত অন্যান্য বন্ধুরা কোরাস গাইতে গাইতে হিরণ্ময়ীকে ঘিরে নাচতে থাকে। হীরক দূরে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে। হিরণ্ময় কিছুই বুঝতে পারে না। ওর বন্ধু বান্ধবীরা সার্কাস দেখার মত হা করে তাকিয়ে আছে। দুয়েকজন ফিসফিস করে কটু কথা বলতেও ছাড়ছে না। আমন্ত্রিত অতিথিরা একটা অশোভনীয় পরিস্থিতির স্বীকার হয়। কি করবে বুঝে উঠতে সময় নেন। নিকটাত্মীয়রা একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়।

হিরণ্ময়ী স্টেজ থেকে উঠে কমিউনিটি সেন্টারের এনাউন্স রুমে যায়। অনুরোধ করে মাউথ স্পীকারটা নেয়। “আমন্ত্রিত অতিথি, নিকটাত্মীয় স্বজন এবং বর পক্ষ থেকে আগত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি” । একটা মিষ্টি সুরেলা কন্ঠ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

আসসালামুয়ালাইকুম। হিরণ্ময়ী সবাইকে সালাম দিয়ে পরিচয় দেয়। সবাই আবারও একটু অবাক হয়। উপস্থিত সবাই কান খাড়া করে। যে পাত্রীর বরকে একটু আগে পুলিশ নিয়ে গেল সে নাকি কথা বলতে চায়। সবার শোনার কিউরিসিটি বাড়ে। “আমি হিরণ্ময়ী বলছি। আপনারা যে যেভাবে আমার বিয়ে এনজয় করছিলেন ঠিক সেইভাবে এনজয় করুন। এই দুনিয়াতে যৌতুক লোভী বর যেমন আছে ঠিক তেমনি ভালবেসে যৌতুক ছাড়া বিয়ে করার পাত্রেরও অভাব নেই। । সাময়িক অসুবিধার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা সবাই খাওয়া দাওয়া এনজয় করুন। আর আব্বু আম্মু আমি অনেক সরি, তোমাদের এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে ফেলার জন্য আমি তোমাদের কাছে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আর কলিজার টুকরা ছোটো ভাই হিরণ্ময়, তোর কাছেও ক্ষমা চাচ্ছি। তোদের ছেড়ে বিদেশ গিয়ে থাকতে পারতাম না রে ভাই, তাইতো তোর হীরক ভাইকেই বর হিসেবে বেছে নিলাম। আমরা পরস্পরকে ভালবাসি, খুব ভালবসি। আমরা প্ল্যান করেই লোভী মানুষটাকে শিক্ষা দিলাম। আব্বু আম্মু আমি জানি তোমরা ইতঃমধ্যে হীরকের বাবার সাথে পরিচিত হয়েছো। তোমরা সবাই মিলে যদি আমাদের বিয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করো তাহলে আমরা চির কৃতজ্ঞ থাকবো”। শেষের কথা গুলো বলতে গিয়ে হিরণ্ময়ীর গলা ধরে আসে, দুচোখ অশ্রু সিক্ত হয়।

হিরণ্ময়ী কমিউনিটি সেন্টারের এনাউন্স রুম থেকে ধীর পায়ে বের হয়ে আসে। হীরক দৌড়ে পাশে গিয়ে হাত ধরে, চোখে চোখ রেখে মিষ্টি হাসি বিনিময় করে। হেঁটে হেঁটে দুজনেই আব্বু-আম্মুরদের কাছে আসে, নীচু হয়ে মাথা উঁচু করে সালাম করে। উপস্থিত বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সবাই হাত তালি দিয়ে স্বাগত জানায়।

ডিসক্লেইমার: বন্ধুরা সম্পূর্ণ কল্পনা ভিত্তিক গল্পটি যদি কারো সাথে মিলে যায় তাহলে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। যারা নিয়মিত ভাবে পড়েছেন এবং মন্তব্য করে উৎসাহিত করেছেন তাদের প্রতি রইলো অঢেল কৃতজ্ঞতা। একবিংশ শতাব্দীতে আর কেউ যেন যৌতুক নিয়ে বিয়ে করার কথা ভাবতে না পারে তাঁর জন্যই এই লেখার অবতারনা। আপনাদের সকলের দোয়া এবং অনুপ্রেরণা প্রার্থী। সবাই ঘরে থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন। আল্লাহ আমাদের জীবন মান হেফাজত করুন। আমীন।

#সমাপ্ত।

 

লেখক পরিচিতিঃ-

লেখক ডি. এম. কামরুজ্জামান স্বাধীন।

পিতা আব্দুল করিম দেওয়ান তাঁর জীবনে চলার পথের আদর্শ। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি ছিল‌ প্রবল আগ্রহ। মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার ছায়া‌সুনিবির নিভৃত পল্লী কেয়াইন গ্রামে ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে বাল্য জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে মাদ্রাসা শিক্ষায়। সেখানে মন বসাতে না পেরে অতঃপর আবার প্রাইমারী স্কুলে ফেরত। দূরন্ত কৈশোর কেটেছে গ্রামের বাড়িতে।‌

স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় “বাংলাদেশ শিশু একাডেমী” থেকে প্রকাশিত “শিশু পত্রিকায়” বর্ষা‌ সংখ্যায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়।

শিক্ষা-জীবনঃ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কুচিয়ামোড়া থেকে এস.এস.সি, তেজগাঁও কলেজ ঢাকা থেকে এইচ.এস. সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন।

পেশাঃ একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সেলস্ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত আছেন।

পছন্দঃ খেলাধুলা, বই পড়া, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো ও সাহিত্য চর্চা করা।

রচনাবলীঃ দেশের স্বনামধন্য অনেক শিল্পী লেখকের রচিত গানের কথায় গান গেয়েছেন। ইউটিউবসহ অনেক অনলাইন প্ল্যাপফর্মে লেখকের লেখা গান এর ভিডিও অডিও দেখা ও শোনা যায়। লেখকের অসংখ্য কবিতা স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও নাটকের স্ক্রিপ্ট, গানের ভিডিও স্ক্রিপ্ট, ছোট গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া ও গান রচনা করেন।

পুরস্কারঃ বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্য সংগঠন ও সাহিত্য পত্রিকা থেকে অসংখ্য সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন।

শেয়ার করুন :

আপলোডকারীর তথ্য

ধারাবাহিক গল্প।

গল্পঃ- ‘কন্যার বিবাহ’ – ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন। পর্ব – ৫ || দৈনিক নয়ালোক

আপডেট সময় : ০৯:০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ মে ২০২৩

“কন্যার বিবাহ”

রচনা:- ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন।

“শেষ খন্ড”

হীরকের বাবা সরদার আজমত আলী সাহেব হিকমত সাহেবের পিছু নেন। অনাকাঙ্ক্ষিত কোন কিছু ঘটার আগেই হিকমত সাহেবকে আশ্বস্ত করার ব্যপারে ওয়াকিবহাল আছেন। হিকমত সাহেব গেটের সামনে এসে দেখেন তাঁর মেয়ের হবু বর পুলিশ ভ্যানে বসা। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে আছেন। আজমত আলী সাহেব হিকমত সাহেবের কাঁধের উপর হাত রাখেন। হিকমত সাহেব বুকের বাম পাশ হাত দিয়ে ঘুরে দাঁড়ান। আজমত আলী চোখের ইশারায় অভয় দেবার চেষ্টা করেন। হিকমত আলী ইতঃমধ্যে বুকে চিন চিন ব্যথা অনুভব করেন, সেই দিকে তোয়াক্কা না করে পুলিশ ভ্যানের দিকে এগিয়ে যাবার জন্য পা বাড়ান।

আজমত আলী সাহেব তাঁর হাত ধরে থামান। “আপনাকে আর এই বিষয়ে ভাবতে হবে না। আমি আপনার মেয়ের বন্ধু হীরকের বাবা, আমি সব জানি, আপনি রিল্যক্স হন, মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে, সমাজ কী বলবে এই নিয়ে একটুও চিন্তা করবেন না। আপনি ভাবুন আপনার মেয়ে একজন যৌতুক লোভীর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে” । আজমত আলী অল্প সময়ে বেশ গুছিয়ে কথা গুলো বললেন। হিকমত আলী মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে থেকে কথা গুলো গিলে যান। বুক থেকে হাত নামিয়ে নিয়ে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়েন। “ভাই আমার মেয়েকে এই ঘটনার পর কে বিয়ে করবে?” অসহায়ের মত আজমত আলীর দিকে প্রশ্ন ছূড়ে দেন। “আপনার মেয়ে অন্যায় কিছু করেনি, বরং অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে, ও হাজার হাজার মেয়ের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। আপনি এতো ভাবছেন কেন?” আজমত আলী সাহেব কথার দৃঢ়তা দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন পাশে আছেন।

হনুফা বানু শোনেই গেটে ছুটে এসেছেন। হিকমত সাহেবকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একটু স্বস্তি পান। পাশে এসে দাঁড়ান। এমন সময় পুলিশ ভ্যান স্টার্ট দেয়। হনুফা বানু এগিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই হিকমত আলী পেছন থেকে হাত ধরেন। “বানু আমি ভুল বুঝতে পেরেছি, আমার মেয়ে সঠিক কাজটি করেছে। আমরা ওর পছন্দের গুরুত্ব না দিয়ে লোভে পড়ে বিদেশী পাত্রের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি” । বানু অবাক হয়ে বিস্ফারিত চোখে হিকমত আলীর দিকে তাকিয়ে থাকেন।

“হুক্কা হুয়া, ক্যায়া মজা, বর রাজা কুপোকাত” তন্ময়, তিন্নী এবং উপস্থিত অন্যান্য বন্ধুরা কোরাস গাইতে গাইতে হিরণ্ময়ীকে ঘিরে নাচতে থাকে। হীরক দূরে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে। হিরণ্ময় কিছুই বুঝতে পারে না। ওর বন্ধু বান্ধবীরা সার্কাস দেখার মত হা করে তাকিয়ে আছে। দুয়েকজন ফিসফিস করে কটু কথা বলতেও ছাড়ছে না। আমন্ত্রিত অতিথিরা একটা অশোভনীয় পরিস্থিতির স্বীকার হয়। কি করবে বুঝে উঠতে সময় নেন। নিকটাত্মীয়রা একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়।

হিরণ্ময়ী স্টেজ থেকে উঠে কমিউনিটি সেন্টারের এনাউন্স রুমে যায়। অনুরোধ করে মাউথ স্পীকারটা নেয়। “আমন্ত্রিত অতিথি, নিকটাত্মীয় স্বজন এবং বর পক্ষ থেকে আগত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি” । একটা মিষ্টি সুরেলা কন্ঠ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

আসসালামুয়ালাইকুম। হিরণ্ময়ী সবাইকে সালাম দিয়ে পরিচয় দেয়। সবাই আবারও একটু অবাক হয়। উপস্থিত সবাই কান খাড়া করে। যে পাত্রীর বরকে একটু আগে পুলিশ নিয়ে গেল সে নাকি কথা বলতে চায়। সবার শোনার কিউরিসিটি বাড়ে। “আমি হিরণ্ময়ী বলছি। আপনারা যে যেভাবে আমার বিয়ে এনজয় করছিলেন ঠিক সেইভাবে এনজয় করুন। এই দুনিয়াতে যৌতুক লোভী বর যেমন আছে ঠিক তেমনি ভালবেসে যৌতুক ছাড়া বিয়ে করার পাত্রেরও অভাব নেই। । সাময়িক অসুবিধার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা সবাই খাওয়া দাওয়া এনজয় করুন। আর আব্বু আম্মু আমি অনেক সরি, তোমাদের এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে ফেলার জন্য আমি তোমাদের কাছে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আর কলিজার টুকরা ছোটো ভাই হিরণ্ময়, তোর কাছেও ক্ষমা চাচ্ছি। তোদের ছেড়ে বিদেশ গিয়ে থাকতে পারতাম না রে ভাই, তাইতো তোর হীরক ভাইকেই বর হিসেবে বেছে নিলাম। আমরা পরস্পরকে ভালবাসি, খুব ভালবসি। আমরা প্ল্যান করেই লোভী মানুষটাকে শিক্ষা দিলাম। আব্বু আম্মু আমি জানি তোমরা ইতঃমধ্যে হীরকের বাবার সাথে পরিচিত হয়েছো। তোমরা সবাই মিলে যদি আমাদের বিয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করো তাহলে আমরা চির কৃতজ্ঞ থাকবো”। শেষের কথা গুলো বলতে গিয়ে হিরণ্ময়ীর গলা ধরে আসে, দুচোখ অশ্রু সিক্ত হয়।

হিরণ্ময়ী কমিউনিটি সেন্টারের এনাউন্স রুম থেকে ধীর পায়ে বের হয়ে আসে। হীরক দৌড়ে পাশে গিয়ে হাত ধরে, চোখে চোখ রেখে মিষ্টি হাসি বিনিময় করে। হেঁটে হেঁটে দুজনেই আব্বু-আম্মুরদের কাছে আসে, নীচু হয়ে মাথা উঁচু করে সালাম করে। উপস্থিত বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সবাই হাত তালি দিয়ে স্বাগত জানায়।

ডিসক্লেইমার: বন্ধুরা সম্পূর্ণ কল্পনা ভিত্তিক গল্পটি যদি কারো সাথে মিলে যায় তাহলে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। যারা নিয়মিত ভাবে পড়েছেন এবং মন্তব্য করে উৎসাহিত করেছেন তাদের প্রতি রইলো অঢেল কৃতজ্ঞতা। একবিংশ শতাব্দীতে আর কেউ যেন যৌতুক নিয়ে বিয়ে করার কথা ভাবতে না পারে তাঁর জন্যই এই লেখার অবতারনা। আপনাদের সকলের দোয়া এবং অনুপ্রেরণা প্রার্থী। সবাই ঘরে থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন। আল্লাহ আমাদের জীবন মান হেফাজত করুন। আমীন।

#সমাপ্ত।

 

লেখক পরিচিতিঃ-

লেখক ডি. এম. কামরুজ্জামান স্বাধীন।

পিতা আব্দুল করিম দেওয়ান তাঁর জীবনে চলার পথের আদর্শ। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি ছিল‌ প্রবল আগ্রহ। মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার ছায়া‌সুনিবির নিভৃত পল্লী কেয়াইন গ্রামে ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে বাল্য জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে মাদ্রাসা শিক্ষায়। সেখানে মন বসাতে না পেরে অতঃপর আবার প্রাইমারী স্কুলে ফেরত। দূরন্ত কৈশোর কেটেছে গ্রামের বাড়িতে।‌

স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় “বাংলাদেশ শিশু একাডেমী” থেকে প্রকাশিত “শিশু পত্রিকায়” বর্ষা‌ সংখ্যায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়।

শিক্ষা-জীবনঃ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কুচিয়ামোড়া থেকে এস.এস.সি, তেজগাঁও কলেজ ঢাকা থেকে এইচ.এস. সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন।

পেশাঃ একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সেলস্ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত আছেন।

পছন্দঃ খেলাধুলা, বই পড়া, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো ও সাহিত্য চর্চা করা।

রচনাবলীঃ দেশের স্বনামধন্য অনেক শিল্পী লেখকের রচিত গানের কথায় গান গেয়েছেন। ইউটিউবসহ অনেক অনলাইন প্ল্যাপফর্মে লেখকের লেখা গান এর ভিডিও অডিও দেখা ও শোনা যায়। লেখকের অসংখ্য কবিতা স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও নাটকের স্ক্রিপ্ট, গানের ভিডিও স্ক্রিপ্ট, ছোট গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া ও গান রচনা করেন।

পুরস্কারঃ বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্য সংগঠন ও সাহিত্য পত্রিকা থেকে অসংখ্য সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন।