ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গল্পঃ- ‘কন্যার বিবাহ’ – ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন। পর্ব – ৩ || দৈনিক নয়ালোক

SRI Bonsai
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩
  • / ৫১৪৮ বার পড়া হয়েছে

“কন্যার বিবাহ”

কলমেঃ- ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন

“তৃতীয় খন্ড”

 

হিরণ্ময়ী, হীরক ও তিন /চার বন্ধুর ক্লোজ ডোর বৈঠক। বিয়ের দিনের যাবতীয় পরিকল্পনার অনুশীলন চলছে। গায়ে হলুদে কে কোন গানের সাথে নাচবে, কে কী গান গাইবে, কে কী পোশাক পড়বে সেই সব নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

এর মধ্যেও হীরক আর হিরণ্ময়ী আলাদা হয়ে কথা বলে নেয়। বিয়ের কোন মুহুর্তে হীরকের বাবা মা এসে হিরণ্ময়ীর বাবাকে শান্তনা দিবে, কখন হিরণ্ময়ীকে নিজের ছেলের বউ করে নেবার প্রস্তাব দিবে, নিজেরা সব নিয়ে আলোচনা করে নেয়।

“কীরে আলাদা হয়ে কী ফিসফাস করছিস? বিয়ের আগেই কী বাসরের ব্যবস্থা করে দেব?” তন্ময় একটু টিপ্পনী কেটে হিরণ্ময়ী আর হীরকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। উপস্থিত বাকী সবাই হো হো করে হেসে উঠে।

“চল আমরা হিরণ্ময় এর রুমে গিয়ে বসি, ছোটো ভাইটাকেও একটু ইনভলভড করি, বোনের বিয়েতে ওর কী প্ল্যান জেনে নেই। ওদের একটু প্রাইভেসিও হবে।” তন্ময়ের সাথে ইকো করে তিন্নীও মজা নেয়। সবাই আরও একবার হো হো হো করে হাসে।

হনুফা বানু দুয়েকবার এসে টোকা দিয়ে ভিতরে কী হচ্ছে জানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে চলে যান। কাজের মেয়ে টুকুন দুই বার চা দিয়ে যায়। বন্ধুরা মশকরা করলেও কেউ রুম থেকে বের হয় না। গায়ে হলুদ ও বিয়ের দিনের রিহার্সেল চলে।

“বিয়ের গেটে মরিচের শরবত এর গ্লাস কে নিয়ে আসবে?” হিরণ্ময়ী প্রশ্ন করে আরেকবার সিউর হবার চেষ্টা করে। “তিন্নী শরবত আর তৃষ্ণা ফুলের সাথে বিলাইওলা ছিটিয়ে দিবে।” হীরক বেশ উচ্ছ্বসিত ভাবে বলে। সবার চোখে মুখে আনন্দের সাথে একটা দুষ্টুমির ঝিলিক হিল্লোল দিয়ে উঠে। “পুলিশকে কে নিয়ে আসবে?” হিরণ্ময়ী আবারও প্রশ্ন করে নিশ্চিত হবার চেষ্টা করে।

হিকমত সাহেব গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরেছেন। হনুফা বানু একগ্লাস ঠান্ডা পানি নিয়ে পাশে দাঁড়ান। হিকমত সাহেব সোফায় বসেন, হাত বাড়িয়ে পানির গ্লাস নেন। “হনুফা টাকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে, বাড়ীর পাশে যে জমিটা আছে ঐটা বন্ধক রেখে হাসমত চাচা টাকা দিতে রাজী হয়েছেন। বিয়ের অনুষ্ঠানাদি নিয়ে আর চিন্তা নেই।” হিকমত সাহেব বেশ খুশি মনেই হনুফা বানুর সাথে শেয়ার করেন। মানুষ দুঃখ কষ্ট বুকের ভেতর সিন্ধুকের মাঝে লুকিয়ে রাখতে পারলেও আনন্দ লুকাতে পারে না। আনন্দ হচ্ছে প্রাকৃতিক ঝর্ণা, একে বাঁধ দিয়ে আটকানো যায় না।

“বাবা, আপুর বিয়েতে কিন্তু আমার বিশজন বন্ধু/বান্ধবী দাওয়াত দিব। আর আমাকে কিছু টাকা দিতে হবে, আমি শপিং করবো।” একমাত্র ছেলে হিরণ্ময় রুমে ঢুকে বাবাকে দেখেই ফর্দ জানিয়ে দেয়। হিকমত সাহেব ছেলের কথায় আজ আর কষ্ট পান না। পকেটে টাকা থাকলে মানুষ সব কিছু হাসিমুখেই হজম করে, হিকমত সাহেবও তাই করলেন।

“হবে বাবা, সব হবে, তোর বোনের বিয়েতে তো তুই আনন্দ করবি, যা লাগে তোর মায়ের কাছ থেকে নিয়ে নিস।” হিকমত সাহেব ছেলেকে খুশি করার জন্য সব কিছুতে সায় দিয়ে দেয়। হিরণ্ময় খুশীতে চলে যায়।

হনুফা বানু অবাক হয়ে হিকমত সাহেবের দিকে তাকিয়ে থাকেন। একদিন আগের হিকমত সাহেবের সাথে আজকের হিকমত সাহেবকে মেলাতে পারেন না। “মেয়ে চেয়েছে পাঁচ লাখ, তাতেই দুইদিন ঘাপটি মেরে ছিলেন, ছেলে যদি একলাখ চায় তাহলে কয়দিন ঘাপটি মেরে থাকবেন?” হনুফা বানু একটু অভিমানের সাথে ক্লেদ নিয়ে প্রশ্ন করেন। হিকমত সাহেব একটা মিষ্টি রহস্যময় হাসি দিয়ে রুমের দিকে চলে যান। হনুফা বানু রহস্যময় হাসির কারণ বোঝার জন্য হিকমত সাহেবের দিকে হা করে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। (চলবে)

 

লেখক পরিচিতিঃ-

লেখক ডি. এম. কামরুজ্জামান স্বাধীন।

পিতা আব্দুল করিম দেওয়ান তাঁর জীবনে চলার পথের আদর্শ। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি ছিল‌ প্রবল আগ্রহ। মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার ছায়া‌সুনিবির নিভৃত পল্লী কেয়াইন গ্রামে ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে বাল্য জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে মাদ্রাসা শিক্ষায়। সেখানে মন বসাতে না পেরে অতঃপর আবার প্রাইমারী স্কুলে ফেরত। দূরন্ত কৈশোর কেটেছে গ্রামের বাড়িতে।‌

স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় “বাংলাদেশ শিশু একাডেমী” থেকে প্রকাশিত “শিশু পত্রিকায়” বর্ষা‌ সংখ্যায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়।

শিক্ষা-জীবনঃ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কুচিয়ামোড়া থেকে এস.এস.সি, তেজগাঁও কলেজ ঢাকা থেকে এইচ.এস. সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন।

পেশাঃ একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সেলস্ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত আছেন।

পছন্দঃ খেলাধুলা, বই পড়া, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো ও সাহিত্য চর্চা করা।

রচনাবলীঃ দেশের স্বনামধন্য অনেক শিল্পী লেখকের রচিত গানের কথায় গান গেয়েছেন। ইউটিউবসহ অনেক অনলাইন প্ল্যাপফর্মে লেখকের লেখা গান এর ভিডিও অডিও দেখা ও শোনা যায়। লেখকের অসংখ্য কবিতা স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও নাটকের স্ক্রিপ্ট, গানের ভিডিও স্ক্রিপ্ট, ছোট গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া ও গান রচনা করেন।

পুরস্কারঃ বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্য সংগঠন ও সাহিত্য পত্রিকা থেকে অসংখ্য সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন।

শেয়ার করুন :

আপলোডকারীর তথ্য

গল্পঃ- ‘কন্যার বিবাহ’ – ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন। পর্ব – ৩ || দৈনিক নয়ালোক

আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩

“কন্যার বিবাহ”

কলমেঃ- ডি এম কামরুজ্জামান স্বাধীন

“তৃতীয় খন্ড”

 

হিরণ্ময়ী, হীরক ও তিন /চার বন্ধুর ক্লোজ ডোর বৈঠক। বিয়ের দিনের যাবতীয় পরিকল্পনার অনুশীলন চলছে। গায়ে হলুদে কে কোন গানের সাথে নাচবে, কে কী গান গাইবে, কে কী পোশাক পড়বে সেই সব নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

এর মধ্যেও হীরক আর হিরণ্ময়ী আলাদা হয়ে কথা বলে নেয়। বিয়ের কোন মুহুর্তে হীরকের বাবা মা এসে হিরণ্ময়ীর বাবাকে শান্তনা দিবে, কখন হিরণ্ময়ীকে নিজের ছেলের বউ করে নেবার প্রস্তাব দিবে, নিজেরা সব নিয়ে আলোচনা করে নেয়।

“কীরে আলাদা হয়ে কী ফিসফাস করছিস? বিয়ের আগেই কী বাসরের ব্যবস্থা করে দেব?” তন্ময় একটু টিপ্পনী কেটে হিরণ্ময়ী আর হীরকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। উপস্থিত বাকী সবাই হো হো করে হেসে উঠে।

“চল আমরা হিরণ্ময় এর রুমে গিয়ে বসি, ছোটো ভাইটাকেও একটু ইনভলভড করি, বোনের বিয়েতে ওর কী প্ল্যান জেনে নেই। ওদের একটু প্রাইভেসিও হবে।” তন্ময়ের সাথে ইকো করে তিন্নীও মজা নেয়। সবাই আরও একবার হো হো হো করে হাসে।

হনুফা বানু দুয়েকবার এসে টোকা দিয়ে ভিতরে কী হচ্ছে জানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে চলে যান। কাজের মেয়ে টুকুন দুই বার চা দিয়ে যায়। বন্ধুরা মশকরা করলেও কেউ রুম থেকে বের হয় না। গায়ে হলুদ ও বিয়ের দিনের রিহার্সেল চলে।

“বিয়ের গেটে মরিচের শরবত এর গ্লাস কে নিয়ে আসবে?” হিরণ্ময়ী প্রশ্ন করে আরেকবার সিউর হবার চেষ্টা করে। “তিন্নী শরবত আর তৃষ্ণা ফুলের সাথে বিলাইওলা ছিটিয়ে দিবে।” হীরক বেশ উচ্ছ্বসিত ভাবে বলে। সবার চোখে মুখে আনন্দের সাথে একটা দুষ্টুমির ঝিলিক হিল্লোল দিয়ে উঠে। “পুলিশকে কে নিয়ে আসবে?” হিরণ্ময়ী আবারও প্রশ্ন করে নিশ্চিত হবার চেষ্টা করে।

হিকমত সাহেব গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরেছেন। হনুফা বানু একগ্লাস ঠান্ডা পানি নিয়ে পাশে দাঁড়ান। হিকমত সাহেব সোফায় বসেন, হাত বাড়িয়ে পানির গ্লাস নেন। “হনুফা টাকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে, বাড়ীর পাশে যে জমিটা আছে ঐটা বন্ধক রেখে হাসমত চাচা টাকা দিতে রাজী হয়েছেন। বিয়ের অনুষ্ঠানাদি নিয়ে আর চিন্তা নেই।” হিকমত সাহেব বেশ খুশি মনেই হনুফা বানুর সাথে শেয়ার করেন। মানুষ দুঃখ কষ্ট বুকের ভেতর সিন্ধুকের মাঝে লুকিয়ে রাখতে পারলেও আনন্দ লুকাতে পারে না। আনন্দ হচ্ছে প্রাকৃতিক ঝর্ণা, একে বাঁধ দিয়ে আটকানো যায় না।

“বাবা, আপুর বিয়েতে কিন্তু আমার বিশজন বন্ধু/বান্ধবী দাওয়াত দিব। আর আমাকে কিছু টাকা দিতে হবে, আমি শপিং করবো।” একমাত্র ছেলে হিরণ্ময় রুমে ঢুকে বাবাকে দেখেই ফর্দ জানিয়ে দেয়। হিকমত সাহেব ছেলের কথায় আজ আর কষ্ট পান না। পকেটে টাকা থাকলে মানুষ সব কিছু হাসিমুখেই হজম করে, হিকমত সাহেবও তাই করলেন।

“হবে বাবা, সব হবে, তোর বোনের বিয়েতে তো তুই আনন্দ করবি, যা লাগে তোর মায়ের কাছ থেকে নিয়ে নিস।” হিকমত সাহেব ছেলেকে খুশি করার জন্য সব কিছুতে সায় দিয়ে দেয়। হিরণ্ময় খুশীতে চলে যায়।

হনুফা বানু অবাক হয়ে হিকমত সাহেবের দিকে তাকিয়ে থাকেন। একদিন আগের হিকমত সাহেবের সাথে আজকের হিকমত সাহেবকে মেলাতে পারেন না। “মেয়ে চেয়েছে পাঁচ লাখ, তাতেই দুইদিন ঘাপটি মেরে ছিলেন, ছেলে যদি একলাখ চায় তাহলে কয়দিন ঘাপটি মেরে থাকবেন?” হনুফা বানু একটু অভিমানের সাথে ক্লেদ নিয়ে প্রশ্ন করেন। হিকমত সাহেব একটা মিষ্টি রহস্যময় হাসি দিয়ে রুমের দিকে চলে যান। হনুফা বানু রহস্যময় হাসির কারণ বোঝার জন্য হিকমত সাহেবের দিকে হা করে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। (চলবে)

 

লেখক পরিচিতিঃ-

লেখক ডি. এম. কামরুজ্জামান স্বাধীন।

পিতা আব্দুল করিম দেওয়ান তাঁর জীবনে চলার পথের আদর্শ। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি ছিল‌ প্রবল আগ্রহ। মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার ছায়া‌সুনিবির নিভৃত পল্লী কেয়াইন গ্রামে ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে বাল্য জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে মাদ্রাসা শিক্ষায়। সেখানে মন বসাতে না পেরে অতঃপর আবার প্রাইমারী স্কুলে ফেরত। দূরন্ত কৈশোর কেটেছে গ্রামের বাড়িতে।‌

স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় “বাংলাদেশ শিশু একাডেমী” থেকে প্রকাশিত “শিশু পত্রিকায়” বর্ষা‌ সংখ্যায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়।

শিক্ষা-জীবনঃ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কুচিয়ামোড়া থেকে এস.এস.সি, তেজগাঁও কলেজ ঢাকা থেকে এইচ.এস. সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন।

পেশাঃ একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সেলস্ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত আছেন।

পছন্দঃ খেলাধুলা, বই পড়া, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো ও সাহিত্য চর্চা করা।

রচনাবলীঃ দেশের স্বনামধন্য অনেক শিল্পী লেখকের রচিত গানের কথায় গান গেয়েছেন। ইউটিউবসহ অনেক অনলাইন প্ল্যাপফর্মে লেখকের লেখা গান এর ভিডিও অডিও দেখা ও শোনা যায়। লেখকের অসংখ্য কবিতা স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও নাটকের স্ক্রিপ্ট, গানের ভিডিও স্ক্রিপ্ট, ছোট গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া ও গান রচনা করেন।

পুরস্কারঃ বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্য সংগঠন ও সাহিত্য পত্রিকা থেকে অসংখ্য সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন।