ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রচ্ছদ / 'কাব্য কথা' অফিসিয়াল, অনুবাদ সাহিত্য, অন্যান্য, অফিসিয়াল ঘোষণা, আইটি জগৎ, আন্তর্জাতিক সংবাদ, আবহাওয়া সংবাদ, ইতিহাস, ইতিহাসের ক্ষুদ্রাংশ, ইসলাম, উপন্যাস, কবিতা, খেলার সংবাদ, চিঠি, ছোটগল্প, জন্মদিন, জাতীয় সংবাদ, জীবন লিপি (সংক্ষিপ্ত), দৈনন্দিন জীবন, ধর্মীয় আলোকপাত, ধারাবাহিক গল্প, নয়ালোক অফিসিয়াল, নয়ালোক এক্সক্লুসিভ, নয়ালোক লিড, নয়ালোক স্মরণিকা, নাটক, পঞ্চকাব্য, প্রকৃতির বিস্ময়, প্রবন্ধ, ফটো গ্যালারি, বিনোদন জগৎ, বীরদর্পণ ও ভারতবর্ষ, বীরদর্পণ ও স্বাধীন বাংলাদেশ, ভাবানুবাদ সাহিত্য, ভিডিও গ্যালারি, ভ্রমণ কথা, মেগা ধারাবাহিক উপন্যাস, রান্নার সাতকাহন, সনাতন, সংবাদ, সাহিত্য, স্মৃতিচারণ

আরব সাগরে রহস্য

আরব সাগরের মাঝে রহস্যময় দ্বীপ ‘সুকাত্রা’। || দৈনিক নয়ালোক

SRI Bonsai
  • আপডেট সময় : ০২:০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ মে ২০২৩
  • / ৫১৭৫ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩৫৪ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের মধ্যে রয়েছে সুকাত্রা নামের এক রহস্যময় দ্বীপ। এই দ্বীপে এমন সব ব্যাতিক্রমী উদ্ভিদ আর প্রাণীর দেখা মেলে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। যেমন সব অদ্ভু চেহারার গাছপালা রয়েছে এখানে, তেমনি অদ্ভূত দেখতে এখানকার পশুপাখি। যে কারণে একে এলিয়েন আইল্যান্ড বা ভিনগ্রহবাসীদের দ্বীপ বলা হয়।

ছবির মতোই দেখতে সুন্দর এই দ্বীপপুঞ্জের নাম রাখা হয়েছে সুকাত্রা। এটি চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। যার মধ্যে সুকাত্রাই আয়তনে সবচেয়ে বড়। দ্বীপটির আয়তন ৬৫৬০ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪৪,০০০। বাকী তিনটি হলো, আব্দ আল কুরি, দার্সা এবং সামহা। ইয়েমেনের এই দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এক কথায় অনন্য। সাদা বালির সৈকত আর বিরল প্রজাতির বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী এ অঞ্চলটিকে করে তুলেছে এক অনবদ্য দর্শনীয় স্থান। সুকাত্রা দ্বীপ জুড়ে বিরল প্রজাতির নানা উদ্ভিদের দেখা মেলে। দ্বীপের কোথাও ছাতার মতো গাছ, আবার কোথাও দেখা যায় খর্বাকৃতির গাছ। আবার কোনো গাছ পাতাহীন হলেও ডালে ডালে ফুটে আছে ফুল। উদ্ভিদগুলোর এমন অদ্ভুত গড়ন, বিশেষ করে দৃষ্টি কাড়ে।

ড্রাগন ট্রি নামের এক ব্যাতিক্রমী গাছ রয়েছে সুকাত্রা দ্বীপে। এই গাছটি পৃথিবীর আর কোথাও দেখা মিলে না। অদ্ভুত গড়নের ছাতাকৃতির এই গাছটি থেকে লাল বর্ণের আঠালো পদার্থ পাওয়া যায়। গাছটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ এবং রং তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এটি এতটাই জনপ্রিয় যে ইয়েমেনের মুদ্রায়ও এর ছবি খোদিত আছে। এই গাছগুলোর ওপরের অংশে সবুজ পাতার ঠাস বুনোট থাকার কারণে দূর থেকে গাছগুলোকে ছাতার মতো দেখায়। দশ বছরে মাত্র তিন ফুটের মতো এরা বৃদ্ধি পায়। এ প্রজাতির গাছগুলো ৬৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাঁচে।

ডেন্ড্রোসসিয়াস আরেকটি অদ্ভুতুড়ে উদ্ভিদ রয়েছে এখানে। এই উদ্ভিদে হলুদ ও গোলাপী ফুল ফোটে। গবেষকরা মনে করেন, পানির তীব্র সংকট এবং প্রখর তাপমাত্রার কারণেই গাছগুলো এমন অদ্ভুত দেখতে হয়েছে। সুকাত্রা দ্বীপে এই ধরণের বিরল প্রজাতির ৮০০ টিরও বেশি উদ্ভিদ রয়েছে। যার মধ্যে ৩০৭টি প্রজাতি পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। শুধু উদ্ভিদ নয়, এই অঞ্চলে বিচিত্র প্রজাতির প্রাণীও রয়েছে । ন্যাশনাল জিওগ্রাফির তথ্য মতে, এই দ্বীপে ৩৫ প্রজাতির প্রাণী আছে যার মধ্যে ২৯টিই নানা প্রজাতির সরীসৃপ। ত সৌন্দর্যের কারণে সুকাত্রা দ্বীপকে ২০০৮ সালে ইউনেস্কো বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে মনোনীত করে।

শেয়ার করুন :

আপলোডকারীর তথ্য

আরব সাগরে রহস্য

আরব সাগরের মাঝে রহস্যময় দ্বীপ ‘সুকাত্রা’। || দৈনিক নয়ালোক

আপডেট সময় : ০২:০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ মে ২০২৩

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩৫৪ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের মধ্যে রয়েছে সুকাত্রা নামের এক রহস্যময় দ্বীপ। এই দ্বীপে এমন সব ব্যাতিক্রমী উদ্ভিদ আর প্রাণীর দেখা মেলে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। যেমন সব অদ্ভু চেহারার গাছপালা রয়েছে এখানে, তেমনি অদ্ভূত দেখতে এখানকার পশুপাখি। যে কারণে একে এলিয়েন আইল্যান্ড বা ভিনগ্রহবাসীদের দ্বীপ বলা হয়।

ছবির মতোই দেখতে সুন্দর এই দ্বীপপুঞ্জের নাম রাখা হয়েছে সুকাত্রা। এটি চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। যার মধ্যে সুকাত্রাই আয়তনে সবচেয়ে বড়। দ্বীপটির আয়তন ৬৫৬০ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪৪,০০০। বাকী তিনটি হলো, আব্দ আল কুরি, দার্সা এবং সামহা। ইয়েমেনের এই দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এক কথায় অনন্য। সাদা বালির সৈকত আর বিরল প্রজাতির বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী এ অঞ্চলটিকে করে তুলেছে এক অনবদ্য দর্শনীয় স্থান। সুকাত্রা দ্বীপ জুড়ে বিরল প্রজাতির নানা উদ্ভিদের দেখা মেলে। দ্বীপের কোথাও ছাতার মতো গাছ, আবার কোথাও দেখা যায় খর্বাকৃতির গাছ। আবার কোনো গাছ পাতাহীন হলেও ডালে ডালে ফুটে আছে ফুল। উদ্ভিদগুলোর এমন অদ্ভুত গড়ন, বিশেষ করে দৃষ্টি কাড়ে।

ড্রাগন ট্রি নামের এক ব্যাতিক্রমী গাছ রয়েছে সুকাত্রা দ্বীপে। এই গাছটি পৃথিবীর আর কোথাও দেখা মিলে না। অদ্ভুত গড়নের ছাতাকৃতির এই গাছটি থেকে লাল বর্ণের আঠালো পদার্থ পাওয়া যায়। গাছটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ এবং রং তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এটি এতটাই জনপ্রিয় যে ইয়েমেনের মুদ্রায়ও এর ছবি খোদিত আছে। এই গাছগুলোর ওপরের অংশে সবুজ পাতার ঠাস বুনোট থাকার কারণে দূর থেকে গাছগুলোকে ছাতার মতো দেখায়। দশ বছরে মাত্র তিন ফুটের মতো এরা বৃদ্ধি পায়। এ প্রজাতির গাছগুলো ৬৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাঁচে।

ডেন্ড্রোসসিয়াস আরেকটি অদ্ভুতুড়ে উদ্ভিদ রয়েছে এখানে। এই উদ্ভিদে হলুদ ও গোলাপী ফুল ফোটে। গবেষকরা মনে করেন, পানির তীব্র সংকট এবং প্রখর তাপমাত্রার কারণেই গাছগুলো এমন অদ্ভুত দেখতে হয়েছে। সুকাত্রা দ্বীপে এই ধরণের বিরল প্রজাতির ৮০০ টিরও বেশি উদ্ভিদ রয়েছে। যার মধ্যে ৩০৭টি প্রজাতি পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। শুধু উদ্ভিদ নয়, এই অঞ্চলে বিচিত্র প্রজাতির প্রাণীও রয়েছে । ন্যাশনাল জিওগ্রাফির তথ্য মতে, এই দ্বীপে ৩৫ প্রজাতির প্রাণী আছে যার মধ্যে ২৯টিই নানা প্রজাতির সরীসৃপ। ত সৌন্দর্যের কারণে সুকাত্রা দ্বীপকে ২০০৮ সালে ইউনেস্কো বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে মনোনীত করে।